বাইন্যান্সের রেফারেল কোড হলো ZEBRA, আর এটি বসাতে হয় রেজিস্ট্রেশন ফর্মের ঐচ্ছিক “Referral Code” ঘরে — অ্যাকাউন্ট তৈরির বোতাম চাপার ঠিক আগের ধাপে। কোডটি বসালে আপনার নতুন অ্যাকাউন্ট একজন রেফারারের সঙ্গে যুক্ত হয়, এবং আপনি এক্সচেঞ্জের রেফারেল প্রোগ্রামে ঘোষিত ট্রেডিং-ফি ছাড় ও নতুন ব্যবহারকারীর সুবিধাগুলোর জন্য যোগ্য হন। নির্দিষ্ট ছাড়ের হার ও পুরস্কারের পরিমাণ নিবন্ধন পৃষ্ঠায় ও অফিসিয়াল অফার পাতায় যা দেখানো হয়, সেটিই প্রযোজ্য — সেই সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বদলায় বলে এই পাতায় কোনো শতাংশ লিখে রাখা হয়নি।

বাইন্যান্স রেফারেল কোড ZEBRA কোন ধাপে বসাতে হয় তার সংক্ষিপ্ত চিত্র

অফিসিয়াল নিবন্ধন পাতায় যান

রেফারেল কোডের ঘরটি নিবন্ধন ফর্মেই আসে। অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর বেশির ভাগ এক্সচেঞ্জে কোডটি আর যোগ করা যায় না — তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগেই ঘরটি খুঁজে নিয়ে কোড বসিয়ে ফেলুন, আর নিবন্ধনের পরে অ্যাকাউন্টে গিয়ে কোডটি সত্যিই যুক্ত হয়েছে কি না মিলিয়ে দেখুন।

এটি একটি অ্যাফিলিয়েট লিংক, HTML-এ rel="sponsored" দিয়ে চিহ্নিত। এতে আপনার কোনো বাড়তি খরচ হয় না — বিস্তারিত অ্যাফিলিয়েট প্রকাশ পাতায়।

সূচিপত্র

ZEBRA কোডটি আসলে কী করে

রেফারেল কোড কোনো নতুন টাকা তৈরি করে না। আপনি যে ট্রেডিং ফি এমনিতেই দিতেন, সেই ফি-র একটি অংশ কীভাবে ভাগ হবে তা কোডটি ঠিক করে দেয় — কিছুটা আপনার কাছে ছাড় হিসেবে ফেরে, কিছুটা রেফারারের কাছে যায়। কোড না বসালে পুরোটাই এক্সচেঞ্জের কাছে থাকে।

ফি-র ভাগাভাগি, নতুন সুবিধা নয়

রেফারেল ব্যবস্থাটি বুঝতে হলে প্রথমে মনে রাখুন, এক্সচেঞ্জ প্রতিটি লেনদেনে একটি ট্রেডিং ফি নেয়। রেফারেল প্রোগ্রাম সেই ফি-র একটি নির্দিষ্ট অংশকে দুই ভাগে ভাগ করে — একটি অংশ যিনি রেফার করেছেন তাঁর কাছে ফেরত যায়, আর একটি অংশ নতুন ব্যবহারকারীর ছাড় হিসেবে ফেরত আসতে পারে। অর্থাৎ কোড বসালে আপনার খরচ বাড়ে না; কোড না বসালে সেই অংশটুকু শুধু এক্সচেঞ্জের ঘরেই থেকে যায়।

কেন এই পাতায় কোনো শতাংশ লেখা নেই

ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার বেশিরভাগ রেফারেল-লেখায় একটি নির্দিষ্ট ছাড়ের শতাংশ আর একটি নির্দিষ্ট বোনাসের অঙ্ক লেখা থাকে। সেই সংখ্যাগুলো এক্সচেঞ্জের চলতি ক্যাম্পেইন ও অ্যাফিলিয়েট সেটিংসের উপর নির্ভর করে বদলায়, এবং বাইরে থেকে সেগুলো যাচাই করার কোনো উপায় নেই। একটি পুরোনো সংখ্যা কপি হতে হতে বছরের পর বছর টিকে যায়, আর পাঠক ভুল প্রত্যাশা নিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলেন।

প্রশ্ন উত্তর
কোড ZEBRA (পাঁচটি অক্ষর, ইংরেজি বড় হাতের)
কোথায় বসে রেজিস্ট্রেশন ফর্মের ঐচ্ছিক “Referral Code” ঘরে
কখন বসাতে হয় অ্যাকাউন্ট তৈরি করার আগে, নিবন্ধনের সময়েই
খরচ কোনো অতিরিক্ত খরচ নেই
কী পাওয়া যায় রেফারেল প্রোগ্রামে ঘোষিত ফি-ছাড় ও নতুন ব্যবহারকারীর সুবিধা
নির্দিষ্ট হার নিবন্ধন পৃষ্ঠা ও অফিসিয়াল অফার পাতায় যা দেখানো হয়
রেফারেল কোডের মূল তথ্য এক নজরে। ছাড়ের হার ও পুরস্কার ক্যাম্পেইনভেদে বদলায়।

রেজিস্ট্রেশনের কোন ধাপে কোডের ঘরটি আসে

ঘরটি প্রথম পর্দায় থাকে না। ইমেইল বা মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর ফর্মের নিচের দিকে “Referral Code” বা “Entry code” নামে একটি ভাঁজ করা ঐচ্ছিক অংশ থাকে; সেটি খুলে ZEBRA টাইপ করে তারপর অ্যাকাউন্ট তৈরির বোতামে চাপতে হয়।

ব্রাউজারে যে পথে ঘরটি পাবেন

ওয়েব সংস্করণে নিবন্ধন ফর্মটি সাধারণত ধাপে ধাপে খোলে: প্রথমে ইমেইল বা ফোন নম্বর, তারপর পাসওয়ার্ড। রেফারেল ঘরটি সাধারণত একটি ছোট লিংক বা তীর-চিহ্নের পেছনে ভাঁজ করা থাকে, যার পাশে ইংরেজিতে “optional” লেখা থাকে। সেই লিংকে চাপ দিলে ঘরটি খুলে যায়। অনেকে এই অংশটি চোখেই দেখেন না, কারণ ঐচ্ছিক লেখা থাকায় এটি দেখতে গুরুত্বহীন মনে হয়।

মোবাইল অ্যাপে ঘরটি কোথায় লুকিয়ে থাকে

অ্যাপে জায়গার অভাবে এই ঘরটি আরও গভীরে থাকে। সাধারণ ধরন হলো: নিবন্ধনের পদ্ধতি বেছে নেওয়ার পর একটি “আরও দেখুন” বা নিচের দিকে ছোট করে লেখা অংশ থাকে, তার ভেতরে রেফারেল ঘরটি বসানো। মেনুর নাম সংস্করণভেদে বদলায়, তাই নির্দিষ্ট পথ মুখস্থ না করে পর্দায় “Referral” শব্দটি খুঁজুন — এই একটি অভ্যাস প্রায় সব এক্সচেঞ্জে কাজ করে।

কোডটি সত্যিই যুক্ত হয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে

অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর প্রোফাইল বা অ্যাকাউন্ট সেটিংসের ভেতরে রেফারেল সংক্রান্ত পাতায় গিয়ে দেখা যায় কোনো রেফারার যুক্ত আছে কি না। এই পরীক্ষাটি প্রথম দিনেই করে ফেলুন, কারণ পরে সমস্যা ধরা পড়লে সংশোধনের সুযোগ প্রায় থাকে না — যে কারণটি পরের অনুচ্ছেদের মূল বিষয়।

নিবন্ধন ফর্মে রেফারেল কোডের ঘর খুঁজে বের করার চার ধাপ

অ্যাকাউন্ট খোলার পর ZEBRA যোগ করা যায় কি

সাধারণ নিয়ম হলো: নিবন্ধনের সময় কোড না বসালে পরে যোগ করার সুযোগ খুব সীমিত বা একেবারেই নেই। বাইন্যান্সের সহায়তা পাতায় বর্ণিত শর্তগুলো কঠিন — সাধারণত নতুন অ্যাকাউন্ট হতে হয় এবং কোনো জমা বা লেনদেন হয়ে থাকলে সুযোগটি বন্ধ হয়ে যায়।

কেন এই ধাপটি সাধারণত ফিরিয়ে নেওয়া যায় না

রেফারেল সম্পর্ক এক্সচেঞ্জের হিসাবে একটি স্থায়ী সংযোগ — কে কার মাধ্যমে এসেছে, তা পরে বদলালে কমিশনের হিসাব ঘেঁটে যায়। সেই কারণেই প্রায় সব বড় এক্সচেঞ্জ এই সংযোগটিকে অ্যাকাউন্ট তৈরির মুহূর্তে স্থির করে ফেলে। কিছু এক্সচেঞ্জ নির্দিষ্ট শর্তে সীমিত সময়ের জন্য যোগ করতে দেয়, কেউ কেউ একেবারেই দেয় না।

যে কাজগুলো নিবন্ধনের আগেই সেরে রাখা ভালো

যেহেতু সুযোগটি একবারই আসে, নিবন্ধন শুরু করার আগে তিনটি জিনিস হাতের কাছে রাখুন: কোডটি লেখা অবস্থায় (কপি করে রাখলে বানান ভুলের ঝুঁকি শূন্য), যে ইমেইল ঠিকানাটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন সেটি, এবং পরিচয়পত্রের ছবি। মাঝপথে থেমে গিয়ে কোড খুঁজতে গেলে ফর্ম রিফ্রেশ হয়ে ঐচ্ছিক ঘরটি খালি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এক্সচেঞ্জ নিবন্ধনের পরে কোড যোগ যা মনে রাখবেন
বাইন্যান্স শর্তসাপেক্ষ, খুব সীমিত জমা বা লেনদেন হয়ে গেলে সাধারণত আর নয়
OKX সাধারণত নয় নিবন্ধনের সময়েই বসাতে হয়
বিটগেট সাধারণত নয় শুরুতেই ঘরটি খুঁজে নিন
BingX নিশ্চিত নথি নেই — ধরে নিন সম্ভব নয় অফিসিয়াল নিবন্ধন নির্দেশিকায় সম্পর্ক পরিবর্তনযোগ্য নয় বলা আছে
নিয়ম এক্সচেঞ্জভেদে আলাদা ও পরিবর্তনশীল; সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জের সহায়তা পাতাটি দেখে নিন।
নিবন্ধনের পর রেফারেল কোড যোগ করা যায় কি না — এক্সচেঞ্জভিত্তিক তুলনা

ট্রেডিং ফি আসলে কীভাবে কাটা হয়

স্পট লেনদেনে ফি নেওয়া হয় লেনদেনের মোট অঙ্কের শতাংশ হিসেবে, প্রতিবার কেনায় একবার আর বেচায় একবার। হার নির্ভর করে আপনি অর্ডার বইয়ে অপেক্ষা করছেন (মেকার) নাকি বাজারদরে সঙ্গে সঙ্গে নিচ্ছেন (টেকার), এবং কোন জোড়ায় লেনদেন করছেন তার উপর।

মেকার আর টেকার — পার্থক্যটা কোথায়

আপনি যদি এমন দামে অর্ডার দেন যা সঙ্গে সঙ্গে মেলে না এবং অর্ডার বইয়ে অপেক্ষা করে, তখন আপনি বাজারে তারল্য যোগ করছেন — একে বলে মেকার। আর যদি বাজারে থাকা দাম ধরে সঙ্গে সঙ্গে কিনে বা বেচে ফেলেন, তখন আপনি তারল্য তুলে নিচ্ছেন — টেকার। বেশিরভাগ এক্সচেঞ্জ মেকারের ফি কম রাখে, কারণ অর্ডার বই ভরাট রাখা তাদের জন্য উপকারী।

বাইন্যান্সের ফি বাইরে থেকে যাচাই করা যায় না

এখানে একটি বিষয় সরাসরি বলা দরকার। বাইন্যান্স তার প্রতিটি জোড়ার ফি কোনো উন্মুক্ত এন্ডপয়েন্টে প্রকাশ করে না — অফিসিয়াল ফি তালিকা দেখতে হলে লগইন করতে হয়। অর্থাৎ বাইরের কোনো ওয়েবসাইট, এই সাইটসহ, লগইন না করে সেই সংখ্যাগুলো মিলিয়ে দেখতে পারে না।

এই কারণেই বাংলা ও ইংরেজি — দুই ভাষাতেই বহু পুরোনো ফি-সংখ্যা এক লেখা থেকে আরেক লেখায় কপি হয়ে টিকে আছে; কেউ সেগুলো যাচাই করতে পারে না বলে ভুলগুলো ধরাও পড়ে না। আমাদের নিয়ম সহজ: যে সংখ্যা আমরা নিজেরা যাচাই করতে পারিনি, সেটি লিখি না। নিজের প্রকৃত হার দেখার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হলো অ্যাকাউন্টে লগইন করে ফি পাতাটি খোলা।

কোন এক্সচেঞ্জের ফি লগইন ছাড়াই প্রকাশ্য এবং কোনটির নয়

যে তিনটি এক্সচেঞ্জের ফি লগইন ছাড়াই যাচাই করা যায়

MEXC, বিটগেট ও Gate.io তাদের প্রতিটি স্পট জোড়ার মেকার-টেকার হার উন্মুক্ত ঠিকানায় প্রকাশ করে, API key ছাড়াই। নিচের সংখ্যাগুলো সেই তিনটি ঠিকানায় সরাসরি অনুরোধ পাঠিয়ে সংগ্রহ করা, তাই আপনি একই ঠিকানা খুলে নিজেই মিলিয়ে দেখতে পারেন।

সংখ্যাগুলো কোথা থেকে এসেছে

তুলনার একটি বাস্তব প্রেক্ষাপট দরকার — নইলে “ফি কম” কথাটির কোনো মানে থাকে না। যেহেতু বাইন্যান্সের হার বাইরে থেকে দেখা যায় না, আমরা যাদের হার দেখা যায় তাদের দিয়েই মাপকাঠি তৈরি করেছি। নিচের প্রতিটি সংখ্যা এসেছে সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জের নিজস্ব উন্মুক্ত ঠিকানা থেকে, ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সংগৃহীত।

এক্সচেঞ্জ সক্রিয় স্পট জোড়া প্রধান স্তর দ্বিতীয় স্তর
MEXC 2,101 maker 0% / taker 0.05% — 1,741 জোড়া (82.9%) দুই দিকেই 0% — 270 জোড়া (12.9%)
বিটগেট 1,256 maker 0.1% / taker 0.1% — 1,200 জোড়া (95.5%) 0.2% / 0.2% — 56 জোড়া (4.5%)
Gate.io 2,228 0.2% — 2,225 জোড়া (99.9%) 0.1% — মাত্র 3 জোড়া
বাইন্যান্স উন্মুক্ত এন্ডপয়েন্টে প্রতি-জোড়া ফি প্রকাশিত নয়
উৎস: api.mexc.com, api.bitget.com, api.gateio.ws — API key ছাড়া উন্মুক্ত ঠিকানা। সংগ্রহের তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০২৬।

একটি অপ্রত্যাশিত ফল: জনপ্রিয় জোড়াগুলোই সবচেয়ে সস্তা নয়

উপরের টেবিলে বিটগেটের সারিটি খেয়াল করুন: 95.5% জোড়ার হার 0.1%, কিন্তু বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো সবচেয়ে জনপ্রিয় জোড়াগুলো সেই বাকি 4.5% অংশে পড়ে, যেখানে ঘোষিত হার 0.2%। অর্থাৎ “এই এক্সচেঞ্জের ফি 0.1%” বাক্যটি সত্য হলেও আপনি যে জোড়ায় লেনদেন করবেন তার জন্য সত্য নাও হতে পারে।

MEXC-র ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিন্যাস: দুই দিকেই শূন্য ফি-র 270টি জোড়ার মধ্যে 243টি USDC দিয়ে দর করা। তার মানে শূন্য ফি পেতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট একটি মুদ্রা-জোড়া বেছে নিতে হয় — এমনি এমনি সব লেনদেনে শূন্য হয় না। ফি তুলনা করার সময় তাই এক্সচেঞ্জ নয়, নির্দিষ্ট জোড়া ধরে তুলনা করাই সঠিক পদ্ধতি।

ফি হার ১০,০০০ টাকার লেনদেনে ১,০০,০০০ টাকার লেনদেনে ১০ লাখ টাকার লেনদেনে
0% 0 টাকা 0 টাকা 0 টাকা
0.05% 5 টাকা 50 টাকা 500 টাকা
0.1% 10 টাকা 100 টাকা 1,000 টাকা
0.2% 20 টাকা 200 টাকা 2,000 টাকা
শুধুই পাটিগণিত — উপরের টেবিলের যাচাইযোগ্য হারগুলো টাকার অঙ্কে রূপান্তর। প্রতিটি কেনা ও বেচায় ফি আলাদাভাবে কাটে।
বিভিন্ন ফি হারে লেনদেনের খরচ টাকায় হিসাব

বাংলাদেশ থেকে টাকা ঢোকানো ও তোলার ব্যবহারিক দিক

আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জগুলোতে সাধারণত টাকার সরাসরি জমা-উত্তোলনের ব্যবস্থা থাকে না; বেশিরভাগ ব্যবহারকারী স্টেবলকয়েন ব্যবহার করেন। কোন কোন পদ্ধতি আপনার দেশের জন্য চালু আছে তা অ্যাকাউন্টের জমা-পাতায় লগইন করলেই দেখা যায় — সেটিই একমাত্র হালনাগাদ তালিকা।

জমা ও উত্তোলনের পদ্ধতি কেন দেশভেদে আলাদা

এক্সচেঞ্জগুলো প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা করে ঠিক করে কোন পদ্ধতি চালু থাকবে — কোথাও কার্ড, কোথাও ব্যাংক ট্রান্সফার, কোথাও শুধু ব্যবহারকারীদের নিজেদের মধ্যে লেনদেন। তালিকাটি ঘন ঘন বদলায়, তাই কোনো ব্লগে পড়া তালিকা নয়, নিজের অ্যাকাউন্টের জমা-পাতাই দেখা উচিত। সেখানে যা দেখাচ্ছে না, সেটি আপনার জন্য চালু নেই।

নেটওয়ার্ক ফি — একই কয়েন, ভিন্ন খরচ

একটি খরচ প্রায় সবাই ভুলে যান: এক্সচেঞ্জ থেকে কয়েন বাইরে পাঠানোর সময় নেটওয়ার্ক ফি লাগে, আর একই কয়েনের জন্য এই ফি নেটওয়ার্কভেদে বহু গুণ আলাদা হতে পারে। “অমুক নেটওয়ার্ক সবচেয়ে সস্তা” ধরনের পুরোনো কথাগুলো এখন প্রায়ই ভুল, কারণ নতুন কম খরচের নেটওয়ার্ক যুক্ত হয়েছে অথচ প্রচলিত কথাটি হালনাগাদ হয়নি।

স্টেবলকয়েন জমা ও উত্তোলনের ধাপ এবং নেটওয়ার্ক ফি কোথায় লাগে

অ্যাকাউন্ট খুলতে ও পরিচয় যাচাইয়ে কী লাগে

সাধারণত একটি নিজস্ব ইমেইল বা মোবাইল নম্বর, শক্ত পাসওয়ার্ড, দুই স্তরের নিরাপত্তা (2FA), এবং পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সরকারি ছবিসহ পরিচয়পত্র ও একটি সেলফি লাগে। নামের বানান পরিচয়পত্রের সঙ্গে হুবহু মিলতে হয়।

নথিপত্রের তালিকা

পরিচয় যাচাইয়ের ধাপে সাধারণত লাগে সরকারি ছবিসহ পরিচয়পত্রের দুই পিঠের স্পষ্ট ছবি এবং সরাসরি ক্যামেরায় তোলা একটি মুখচ্ছবি। ছবিগুলো ফটোকপি বা পর্দার ছবি নয়, মূল নথির সরাসরি ছবি হতে হবে — এটিই প্রত্যাখ্যানের সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

যাচাই আটকে গেলে সাধারণ কারণগুলো

বারবার যে কারণগুলোতে যাচাই আটকায়: ঝাপসা বা কোণা কেটে যাওয়া ছবি, আলোর প্রতিফলনে ঢাকা পড়া লেখা, নথির মেয়াদ শেষ, অ্যাকাউন্টে দেওয়া নামের সঙ্গে নথির নামের বানানের অমিল, এবং যাচাইয়ের কোড নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহার না করা। একটি ভালো অভ্যাস: দিনের আলোয়, সমতল রঙিন পটভূমিতে, ফ্ল্যাশ বন্ধ রেখে ছবি তোলা।

নিরাপত্তার দিক থেকে দুটি কাজ প্রথম দিনেই সেরে ফেলুন — 2FA চালু করা এবং পুনরুদ্ধারের কোড কাগজে লিখে সরিয়ে রাখা। ফোন হারালে 2FA-র পুনরুদ্ধার কোডই একমাত্র ফিরে আসার পথ, আর সেটি স্ক্রিনশট করে ফোনেই রেখে দিলে সুরক্ষার উদ্দেশ্যটিই ব্যর্থ হয়।

কোড বসানোর সময় সবচেয়ে বেশি যে ভুল হয়

তিনটি ভুল বারবার ঘটে: ঐচ্ছিক ঘরটি খুঁজে না পাওয়া, অক্ষর মিলিয়ে না দেখা, আর ভুয়া নিবন্ধন পাতায় কোড বসিয়ে ফেলা। প্রথম দুটির সমাধান হলো কোড কপি করে বসানো; তৃতীয়টির সমাধান হলো ঠিকানা বার নিজের চোখে পড়া।

বানান ও বড়-ছোট হাতের অক্ষর

কোডটি ZEBRA — পাঁচটি ইংরেজি অক্ষর। অনেক এক্সচেঞ্জে কোডে বড় ও ছোট হাতের অক্ষরের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই হাতে টাইপ করার বদলে কপি করে বসানোই নিরাপদ। আর কপি করার সময় সামনে-পেছনে অতিরিক্ত ফাঁকা জায়গা চলে এলে ফর্ম কোডটিকে অবৈধ ধরতে পারে — বসানোর পর ঘরের ভেতরের লেখাটি একবার চোখ বুলিয়ে নিন।

ভুয়া নিবন্ধন পৃষ্ঠা চেনার উপায়

ক্রিপ্টো-সংক্রান্ত প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো আসল সাইটের হুবহু নকল একটি নিবন্ধন পাতা, যার ঠিকানায় এক-দুটি অক্ষরের পার্থক্য থাকে। বিজ্ঞাপন বা মেসেজে পাওয়া লিংকে সরাসরি না গিয়ে ঠিকানাটি নিজে টাইপ করুন, এবং পাসওয়ার্ড দেওয়ার আগে ঠিকানা বারটি অক্ষরে অক্ষরে পড়ুন।

সাধারণ প্রশ্ন

নিচের ছয়টি প্রশ্ন পাঠকেরা সবচেয়ে বেশি করেন: কোডটি কোথায় বসে, বাড়তি খরচ হয় কি না, ছাড় কত, পরে যোগ করা যায় কি না, বাইন্যান্সের ফি ঠিক কত, আর কোড যুক্ত হয়েছে কি না কীভাবে দেখা যায়। সংক্ষিপ্ত উত্তরগুলো একসঙ্গে রাখা হলো।

বাইন্যান্স রেফারেল কোড ZEBRA কোথায় বসাতে হয়

রেজিস্ট্রেশন ফর্মের ঐচ্ছিক “Referral Code” ঘরে, অ্যাকাউন্ট তৈরির বোতাম চাপার আগে। ঘরটি সাধারণত ভাঁজ করা অবস্থায় থাকে, তাই পর্দায় “Referral” শব্দটি খুঁজে সেই অংশটি খুলে নিতে হয়।

ZEBRA কোড ব্যবহার করলে কি বাড়তি খরচ হয়

না। রেফারেল কোড কোনো অতিরিক্ত খরচ যোগ করে না। এটি শুধু আপনার দেওয়া ট্রেডিং ফি-র একটি অংশ কীভাবে ভাগ হবে তা নির্ধারণ করে; কোড না বসালে সেই অংশটুকু এক্সচেঞ্জের কাছেই থেকে যায়।

ছাড়ের হার ঠিক কত শতাংশ

নির্দিষ্ট শতাংশ এই পাতায় লেখা হয় না, কারণ তা চলতি ক্যাম্পেইন ও অ্যাফিলিয়েট সেটিংস অনুযায়ী বদলায় এবং বাইরে থেকে যাচাই করা যায় না। নিবন্ধন পৃষ্ঠা ও অফিসিয়াল অফার পাতায় যা দেখানো হয়, সেটিই প্রযোজ্য।

অ্যাকাউন্ট খোলার পরে কোড যোগ করা যাবে

সাধারণত না, বা খুব সীমিত শর্তে। বেশিরভাগ এক্সচেঞ্জ রেফারেল সম্পর্ক অ্যাকাউন্ট তৈরির মুহূর্তেই স্থির করে ফেলে। নিয়ম বদলাতে পারে, তাই এক্সচেঞ্জের নিজস্ব সহায়তা পাতাটি দেখে নেওয়াই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায়।

বাইন্যান্সের ট্রেডিং ফি ঠিক কত

বাইন্যান্স প্রতিটি জোড়ার ফি কোনো উন্মুক্ত ঠিকানায় প্রকাশ করে না; অফিসিয়াল ফি তালিকা দেখতে লগইন করতে হয়। তাই এই সাইটে বাইন্যান্সের কোনো নির্দিষ্ট শতাংশ লেখা হয় না — নিজের হার দেখতে অ্যাকাউন্টে লগইন করে ফি পাতাটি খুলুন।

কোডটি সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না কীভাবে দেখব

অ্যাকাউন্ট তৈরির পর প্রোফাইল বা অ্যাকাউন্ট সেটিংসের ভেতরে রেফারেল সংক্রান্ত পাতায় গিয়ে দেখুন কোনো রেফারার যুক্ত আছে কি না। এই পরীক্ষাটি প্রথম দিনেই করে ফেলা ভালো, কারণ পরে সংশোধনের সুযোগ প্রায় থাকে না।


সর্বশেষ যাচাইয়ের তারিখ: । ফি সংক্রান্ত সংখ্যাগুলো ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উন্মুক্ত এন্ডপয়েন্ট থেকে সরাসরি সংগৃহীত। ফি, অফার ও নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে — সিদ্ধান্তের আগে মূল উৎস নিজে দেখে নিন। এই সাইট বিনিয়োগ পরামর্শ দেয় না এবং কোনো আয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় না।