বিটকয়েন কী? কীভাবে কাজ করে, দাম কেন ওঠানামা করে — সহজ ব্যাখ্যা

সংক্ষেপে: বিটকয়েন হলো ইন্টারনেটভিত্তিক একটি ডিজিটাল মুদ্রা, যা কোনো ব্যাংক বা সরকার ইস্যু করে না। লেনদেনের হিসাব রাখা হয় হাজার হাজার কম্পিউটারে একসঙ্গে সংরক্ষিত একটি উন্মুক্ত খাতায় — যার নাম ব্লকচেইন। মোট বিটকয়েনের সংখ্যা নিয়ম অনুযায়ী ২ কোটি ১০ লাখের বেশি হবে না। এর দাম কেউ নির্ধারণ করে না, বাজারের চাহিদা-জোগানে প্রতিদিন বড় আকারে ওঠানামা করে — তাই এটি নিশ্চিত আয়ের কোনো মাধ্যম নয়।

এই লেখাটি শিক্ষামূলক। আমরা কোনো দামের পূর্বাভাস দিই না, কেনা-বেচার পরামর্শ দিই না, এবং এখানে কোনো আয়ের প্রতিশ্রুতি নেই।

২০২৬-এর অক্টোবর হালনাগাদ (১২ অক্টোবর): এই লেখার ফি-সংক্রান্ত দুটি সংখ্যা আজ উন্মুক্ত API থেকে আবার পড়া হয়েছে। যা বদলেছে: Bitget-এ মূল বিটকয়েন নেটওয়ার্কে উত্তোলন ফি 0.00003 থেকে 0.00002 BTC। যা বদলায়নি: BTC/USDT-র ঘোষিত ফি — MEXC maker 0% / taker 0.05%, Bitget ও Gate.io 0.2%। কেনার আগের “পাঁচটি প্রশ্ন” এখন এক্সচেঞ্জের তালিকার আগে আনা হয়েছে, কারণ ঝুঁকির প্রশ্ন আগে, প্ল্যাটফর্ম পরে। বিটকয়েনের ইতিহাস ও মাইনিংয়ের ব্যাখ্যা আজ আবার যাচাই করা হয়নি, তাই সার্বিক যাচাই-তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বরই আছে।

সূচিপত্র

বিটকয়েন কোথা থেকে এলো

২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর “সাতোশি নাকামোতো” ছদ্মনামে একজন বা একদল ব্যক্তি নয় পাতার একটি প্রস্তাবনা প্রকাশ করেন, আর ২০০৯ সালের ৩ জানুয়ারি প্রথম ব্লকটি তৈরি হয়। সাতোশির প্রকৃত পরিচয় আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

বিটকয়েনের মূল ধারণা ছিল এমন একটি টাকা, যা পাঠাতে কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমতি লাগবে না। প্রস্তাবনাটির শিরোনামই ছিল “পিয়ার-টু-পিয়ার ইলেকট্রনিক ক্যাশ সিস্টেম” — অর্থাৎ এক ব্যক্তি থেকে সরাসরি আরেক ব্যক্তির কাছে।

প্রথম ব্লকটিকে বলা হয় “জেনেসিস ব্লক”। সময়টি ছিল ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পরপর, যখন ব্যাংকব্যবস্থার ওপর আস্থা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল। সাতোশি ২০১০-২০১১ সালের দিকে প্রকাশ্য যোগাযোগ বন্ধ করে দেন; এরপর থেকে প্রকল্পটি চলছে বিশ্বজুড়ে স্বেচ্ছাসেবী ডেভেলপার ও ব্যবহারকারীদের হাতে।

বিটকয়েনের “মালিক” কেউ নেই কেন

বিটকয়েনের নিয়মগুলো উন্মুক্ত সফটওয়্যারে লেখা, যা যে কেউ পড়তে ও চালাতে পারেন। নিয়ম বদলাতে হলে নেটওয়ার্কের বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীকে সেই বদল মেনে নিতে হয়। তাই কোনো একক প্রতিষ্ঠান চাইলেই নতুন বিটকয়েন ছাপাতে বা কারও লেনদেন উল্টে দিতে পারে না — যা একই সঙ্গে এর শক্তি এবং ভুল করলে ফেরত না পাওয়ার কারণ।

ব্লকচেইন কীভাবে কাজ করে: একটি খাতার উদাহরণ

ব্লকচেইনকে একটি হিসাবের খাতা ভাবুন, যার হুবহু কপি হাজারো কম্পিউটারে আছে। প্রায় প্রতি ১০ মিনিটে নতুন লেনদেনগুলো একটি “ব্লক” হিসেবে খাতায় যোগ হয়, এবং প্রতিটি ব্লক আগের ব্লকের সঙ্গে গাণিতিকভাবে বাঁধা থাকে — তাই পুরনো পাতা গোপনে বদলানো কার্যত অসম্ভব।

সাধারণ ব্যাংকে আপনার হিসাবের খাতা থাকে ব্যাংকের নিজের কম্পিউটারে; বিটকয়েনে খাতাটি সবার কাছে। কেউ লেনদেন পাঠালে সেটি নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে, তারপর একটি ব্লকে জায়গা পায়। একবার ব্লকে ঢুকে গেলে এবং তার পরে আরও কয়েকটি ব্লক যুক্ত হলে লেনদেনটি স্থায়ী ধরা হয়।

  1. পাঠানো: আপনি আপনার ওয়ালেট থেকে একটি ঠিকানায় বিটকয়েন পাঠানোর নির্দেশ দেন, এবং নিজের গোপন চাবি দিয়ে সেটি ডিজিটালি “সই” করেন।
  2. ছড়িয়ে পড়া: লেনদেনটি নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলোতে পৌঁছায়, যারা সইটি সঠিক কি না এবং আপনার কাছে যথেষ্ট বিটকয়েন আছে কি না যাচাই করে।
  3. ব্লকে যোগ: মাইনাররা লেনদেনগুলো একটি ব্লকে সাজিয়ে খাতায় যোগ করেন।
  4. নিশ্চিতকরণ: তার ওপর আরও ব্লক যোগ হতে থাকলে লেনদেনটি বদলানো ক্রমশ অসম্ভব হয়ে যায়।

ঠিকানা ও গোপন চাবি

বিটকয়েন ঠিকানা অনেকটা মোবাইল ওয়ালেট নম্বরের মতো — অন্যকে দিলে তিনি আপনাকে পাঠাতে পারবেন। কিন্তু গোপন চাবি (বা তার ব্যাকআপ হিসেবে ১২ বা ২৪টি শব্দের “সিড ফ্রেজ”) হলো পিন আর পাসওয়ার্ড একসঙ্গে। যার কাছে চাবি, বিটকয়েন কার্যত তার। কেউ “যাচাই” বা “সাপোর্ট”-এর নামে এই শব্দগুলো চাইলে সেটি নিশ্চিতভাবে প্রতারণা।

একটি বিটকয়েন লেনদেনের চার ধাপ: সই, ছড়ানো, প্রায় ১০ মিনিটে ব্লক, নিশ্চিত

মাইনিং, সীমিত সংখ্যা ও হালভিং

নতুন বিটকয়েন তৈরি হয় কেবল মাইনিংয়ের পুরস্কার হিসেবে। প্রায় প্রতি চার বছরে এই পুরস্কার অর্ধেক হয়ে যায় — একে বলে হালভিং। ২০২৪ সালের এপ্রিলের হালভিংয়ের পর প্রতি ব্লকের পুরস্কার 3.125 BTC, এবং মোট সরবরাহ কখনো ২ কোটি ১০ লাখ ছাড়াবে না।

মাইনাররা বিশেষ কম্পিউটার দিয়ে একটি কঠিন গাণিতিক ধাঁধা সমাধানের প্রতিযোগিতা করেন; যিনি আগে পারেন, তিনি পরের ব্লক যোগ করার অধিকার ও পুরস্কার পান। এই পদ্ধতির নাম “প্রুফ অফ ওয়ার্ক”। এতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়, আর সেটাই খাতাটি বদলানোকে ব্যয়বহুল করে তোলে — কারণ বদলাতে হলে পুরো নেটওয়ার্কের চেয়ে বেশি কম্পিউটিং শক্তি লাগবে।

সময়কালপ্রতি ব্লকের পুরস্কার
২০০৯ থেকে50 BTC
২০১২ সালের হালভিংয়ের পর25 BTC
২০১৬ সালের হালভিংয়ের পর12.5 BTC
২০২০ সালের হালভিংয়ের পর6.25 BTC
২০২৪ সালের এপ্রিলের হালভিংয়ের পর3.125 BTC
প্রতি ২,১০,০০০ ব্লক পরপর পুরস্কার অর্ধেক হয়, যা মোটামুটি চার বছর। পরের হালভিং আনুমানিক ২০২৮ সালে — সঠিক তারিখ নির্ভর করে ব্লক তৈরির গতির ওপর।

এক বিটকয়েন কিনতে হবে, এমন নয়

বিটকয়েনকে আট দশমিক ঘর পর্যন্ত ভাগ করা যায়। সবচেয়ে ছোট এককের নাম “সাতোশি” — 1 BTC = 100,000,000 সাতোশি। তাই পুরো একটি বিটকয়েনের দাম যত বেশিই হোক, এর খুব ছোট অংশও কেনাবেচা হয়। নতুনদের একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো “দাম এত বেশি, তাই আমার জন্য নয়” — আসলে প্রশ্নটি দামের নয়, ঝুঁকি বোঝার।

বিটকয়েন হালভিং: প্রতি ব্লকের পুরস্কার 50 থেকে 3.125 BTC

দাম কেন এত ওঠানামা করে

বিটকয়েনের দামের পেছনে কোনো কোম্পানির আয় বা সরকারের নিশ্চয়তা নেই; দাম ঠিক হয় শুধু মানুষ কত দিতে রাজি তার ওপর। খবর, বড় ক্রেতা-বিক্রেতার সিদ্ধান্ত, নীতিগত ঘোষণা ও আস্থার পরিবর্তনে দাম অল্প সময়ে অনেক বেশি উঠতে বা পড়তে পারে।

ইতিহাসে বিটকয়েন বহুবার কয়েক মাসের মধ্যে তার দামের বড় অংশ হারিয়েছে, আবার বেড়েছে। অতীতে দাম বেড়েছে বলে ভবিষ্যতেও বাড়বে — এমন কোনো নিয়ম নেই। যে টাকা হারালে আপনার সংসারের দৈনন্দিন খরচে টান পড়বে, সে টাকা এমন সম্পদে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়।

বিষয়টাকা (BDT)USDTবিটকয়েন
কে ইস্যু করেবাংলাদেশ ব্যাংকএকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (Tether)কেউ না — নিয়ম সফটওয়্যারে লেখা
দামের লক্ষ্যদেশের মুদ্রানীতি১ মার্কিন ডলারের কাছাকাছিকোনো লক্ষ্য নেই, বাজার নির্ধারণ করে
মোট সরবরাহনীতির ভিত্তিতে বদলায়চাহিদা অনুযায়ী তৈরি ও বাতিলসর্বোচ্চ ২ কোটি ১০ লাখ
ভুল লেনদেন ফেরতব্যাংকের প্রক্রিয়ায় কখনো সম্ভবসীমিত, ইস্যুকারীর ওপর নির্ভরশীলকার্যত সম্ভব নয়
সহজ তুলনা; প্রতিটি সারি সাধারণীকরণ।

“বিটকয়েনে দ্বিগুণ” প্রস্তাব

দাম ওঠানামার খবর ছড়ালেই “আমাদের কাছে বিটকয়েন রাখুন, মাসে নির্দিষ্ট হারে লাভ” ধরনের প্রস্তাব বাড়ে। বিটকয়েন নিজে কোনো নিশ্চিত আয় দেয় না — তাই নিশ্চিত আয়ের প্রতিশ্রুতিই সবচেয়ে বড় সতর্কসংকেত। আরও সংকেত জানতে পড়ুন ক্রিপ্টো স্ক্যাম চেনার ৭টি উপায়।

বিটকয়েন রাখা হয় কোথায়

দুইভাবে: এক্সচেঞ্জের অ্যাকাউন্টে, যেখানে চাবি এক্সচেঞ্জের কাছে; অথবা নিজের ওয়ালেটে, যেখানে চাবি ও দায়িত্ব দুটোই আপনার। প্রথমটিতে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেও উদ্ধার সম্ভব, দ্বিতীয়টিতে সিড ফ্রেজ হারালে কেউ ফেরত দিতে পারবে না।

কোনটি “ভালো” তা নির্ভর করে আপনি কোন ঝুঁকি সামলাতে পারবেন তার ওপর। এক্সচেঞ্জে রাখলে এক্সচেঞ্জের নিরাপত্তা, নীতি ও উত্তোলন-সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। নিজের ওয়ালেটে রাখলে ভুল ঠিকানায় পাঠানো বা সিড ফ্রেজ হারানোর দায় পুরোটাই নিজের।

  • এক্সচেঞ্জে: ২-ধাপ যাচাই (অথেনটিকেটর অ্যাপ) চালু রাখুন, আর উত্তোলন-ঠিকানার সাদা-তালিকা ব্যবহার করুন।
  • নিজের ওয়ালেটে: সিড ফ্রেজ কাগজে লিখে নিরাপদে রাখুন; ফোনের ছবি, ইমেইল বা ক্লাউডে রাখবেন না।
  • পাঠানোর সময়: বিটকয়েন নেটওয়ার্কে পাঠানোর ফি সময়ভেদে বদলায়। উদাহরণ হিসেবে, একটি বড় এক্সচেঞ্জের (Bitget) পাবলিক তথ্যে তারিখে মূল বিটকয়েন নেটওয়ার্কে উত্তোলন ফি ছিল 0.00002 BTC (৯ সেপ্টেম্বরে ছিল 0.00003 BTC)।

বাংলাদেশ থেকে মানুষ বিটকয়েন পায় কীভাবে

আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জগুলোতে সাধারণত টাকার সরাসরি জোড়া থাকে না। তাই প্রচলিত পথ হলো আগে P2P-তে টাকা দিয়ে USDT, তারপর USDT দিয়ে বিটকয়েন। P2P-তে bKash বা Nagad ব্যবহারে অ্যাকাউন্ট আটকে যাওয়ার ঝুঁকি আছে; কারণগুলো বিস্তারিত লেখা আছে আমাদের USDT কী লেখায়। আইনি প্রেক্ষাপট জানতে পড়ুন জাতীয় ব্লকচেইন নীতি ২০২৬ এবং “১২ বছরের জেল” গুজব বনাম বাস্তবতা।

বিটকয়েন কোথায় রাখবেন: এক্সচেঞ্জ না নিজের ওয়ালেট, চাবি কার কাছে

কেনার কথা ভাবার আগে পাঁচটি প্রশ্ন

টাকা পাঠানোর আগে নিজেকে পাঁচটি প্রশ্ন করুন: টাকাটি হারালে সংসার চলবে কি না, চাবি কার কাছে থাকবে, টাকা ঢোকানো ও তোলার পথ কোনটি, প্ল্যাটফর্মটি আসল কি না, আর কেউ নিশ্চিত লাভের কথা বলছে কি না। যেকোনো একটির উত্তর অস্পষ্ট হলে থেমে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত।

বিটকয়েনের ঝুঁকি মূলত দুই রকম: দামের ঝুঁকি, আর ভুল বা প্রতারণার ঝুঁকি। প্রথমটি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, দ্বিতীয়টি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিচের প্রশ্নগুলো দ্বিতীয় ঝুঁকিটি কমানোর জন্য।

  1. এই টাকা হারালে কী হবে? যে টাকা পরের মাসের বাসাভাড়া, পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য রাখা, সেটি দিয়ে শুরু করবেন না। দাম অল্প সময়ে অর্ধেক হয়ে যাওয়া বিটকয়েনের ইতিহাসে নতুন কিছু নয়।
  2. চাবি কার কাছে থাকবে? এক্সচেঞ্জে রাখলে তাদের নিরাপত্তা ও নিয়মের ওপর নির্ভর করবেন; নিজের ওয়ালেটে রাখলে সিড ফ্রেজ সংরক্ষণের পুরো দায় আপনার। দুটোর কোনটি আপনি সামলাতে পারবেন, আগে ঠিক করুন।
  3. টাকা ঢোকানো আর তোলার পথ কী? অনেকে শুধু কেনার পথ ভাবেন, তোলার পথ ভাবেন না। P2P-তে মোবাইল ওয়ালেট আটকে যাওয়ার ঝুঁকি দুই দিকেই আছে — কেনার সময়ও, বিক্রির সময়ও।
  4. ওয়েবসাইট বা অ্যাপটি আসল তো? বিজ্ঞাপন, গ্রুপের লিংক বা মেসেজ থেকে নয় — ঠিকানাটি নিজে টাইপ করে বা নিজের সংরক্ষিত বুকমার্ক থেকে খুলুন। নকল সাইট প্রায়ই আসল নামের এক-দুটি অক্ষর বদলে তৈরি করা হয়।
  5. কেউ কি নিশ্চিত লাভের কথা বলছে? বিটকয়েনের দাম কেউ নিশ্চিত করতে পারে না। “আমার কাছে রাখুন, মাসে নির্দিষ্ট লাভ” — এই বাক্য শুনলেই থামুন।

বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে বিতর্ক

প্রুফ অফ ওয়ার্ক পদ্ধতিতে মাইনিংয়ে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে, তাই পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক আছে। সমর্থকেরা বলেন এই খরচই নেটওয়ার্কের নিরাপত্তার ভিত্তি এবং মাইনিং ক্রমশ নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে যাচ্ছে; সমালোচকেরা বলেন খরচটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বিষয়টি জেনে রাখা ভালো, কারণ বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারণে এই যুক্তি বারবার উঠে আসে। আমরা এই বিতর্কে কোনো পক্ষ নিচ্ছি না; শুধু মনে করিয়ে দিচ্ছি যে একটি প্রযুক্তি বোঝার সময় তার খরচের দিকটিও বোঝা দরকার।

বিটকয়েন কেনার আগে যাচাই করার প্রশ্নের তালিকা, নিশ্চিত লাভের প্রস্তাব এড়ান

বিটকয়েন লেনদেন হয় যেসব এক্সচেঞ্জে

নিচের প্রতিটি আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জে BTC/USDT বাজার আছে। প্রতিটির নিবন্ধন ধাপ ও রেফারেল কোডের ঘর আলাদা, তাই এই সাইটের আলাদা গাইড দেখে নিন। কোনটিই “সেরা” বলে আমরা সুপারিশ করছি না।

BTC/USDT-এর ট্রেডিং ফি সব এক্সচেঞ্জে এক নয়। আমাদের তারিখের যাচাইয়ে (১৮ আগস্টেও একই ছিল) যে তিনটি এক্সচেঞ্জ চাবি ছাড়াই প্রতিটি জোড়ার ফি প্রকাশ করে, তাদের পাবলিক তথ্যে BTC/USDT-এর ঘোষিত মৌলিক ফি ছিল: MEXC মেকার 0% / টেকার 0.05%, Bitget 0.2%, Gate.io 0.2%। এগুলো এন্ডপয়েন্টে ঘোষিত মান মাত্র — বিশেষ করে Bitget-এর সংখ্যাটি লগইন ছাড়া অ্যাকাউন্টের প্রকৃত হারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়নি, তাই চূড়ান্ত হার নিজের অ্যাকাউন্টের ফি পাতায় দেখে নিন।

এক্সচেঞ্জরেফারেল কোডএই সাইটের গাইডঅফিসিয়াল নিবন্ধন
BinanceZEBRABinance গাইডনিবন্ধন পাতা
OKXBOOKSOKX গাইডনিবন্ধন পাতা
MEXCmexc-hqMEXC গাইডনিবন্ধন পাতা
Bitgetminer6Bitget গাইডনিবন্ধন পাতা
Gate.ioKEEPKEEPGate.io গাইডনিবন্ধন পাতা
BybitHODL8Bybit গাইডনিবন্ধন পাতা
“নিবন্ধন পাতা” লিংকগুলো অ্যাফিলিয়েট লিংক, HTML-এ rel=”sponsored” দিয়ে চিহ্নিত। এতে আপনার কোনো বাড়তি খরচ হয় না — বিস্তারিত অ্যাফিলিয়েট প্রকাশ পাতায়।

রেফারেল কোড নিবন্ধন ফর্মেই বসাতে হয়; কোথায় বসাবেন তা দেখুন রেফারেল কোড কোথায় বসাবেন লেখায়, আর পরিচয় যাচাইয়ের কাগজপত্রের তালিকা KYC-তে কী কী কাগজ লাগে লেখায়।

একই ১,০০,০০০ টাকার BTC/USDT কেনা-বেচায় তিন এক্সচেঞ্জের ঘোষিত খরচ

এক্সচেঞ্জ (BTC/USDT)ঘোষিত হার১,০০,০০০ টাকার কেনায়একই অঙ্কের বেচায়কেনা-বেচা মিলিয়ে
MEXCmaker 0% / taker 0.05%taker হলে 50 টাকাtaker হলে 50 টাকা100 টাকা (দুই দিকেই maker হলে 0 টাকা)
Bitget0.2% / 0.2%200 টাকা200 টাকা400 টাকা
Gate.io0.2% (একটিই সংখ্যা)200 টাকা200 টাকা400 টাকা
উৎস: api.mexc.com, api.bitget.com, api.gateio.ws — API key ছাড়া উন্মুক্ত ঠিকানা, সংগ্রহ ১২ অক্টোবর ২০২৬। এটি ঘোষিত হারের সরল পাটিগণিত, কারও প্রকৃত খরচ নয়; স্তর, প্ল্যাটফর্ম টোকেন বা ছাড় যোগ হলে অঙ্ক বদলায়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

নিচে পাঁচটি প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর — বিটকয়েন কে নিয়ন্ত্রণ করে, অল্প টাকায় কেনা যায় কি না, মাইনিং কী, বিটকয়েন হারালে ফেরত পাওয়া যায় কি না, এবং এটি নিরাপদ বিনিয়োগ কি না।

বিটকয়েন কে নিয়ন্ত্রণ করে?

কোনো একক প্রতিষ্ঠান নয়। নিয়মগুলো উন্মুক্ত সফটওয়্যারে লেখা এবং বিশ্বজুড়ে হাজারো কম্পিউটার সেগুলো মেনে খাতা রাখে। নিয়ম বদলাতে নেটওয়ার্কের বিপুল অংশের সম্মতি লাগে।

অল্প টাকায় কি বিটকয়েন কেনা যায়?

হ্যাঁ, বিটকয়েনকে আট দশমিক ঘর পর্যন্ত ভাগ করা যায় — সবচেয়ে ছোট একক সাতোশি, আর 1 BTC = 100,000,000 সাতোশি। তবে প্রতিটি এক্সচেঞ্জের নিজস্ব ন্যূনতম লেনদেনের সীমা থাকে, যা অ্যাপে দেখে নিতে হবে।

বিটকয়েন মাইনিং মানে কী?

মাইনিং হলো বিশেষ কম্পিউটার দিয়ে গাণিতিক ধাঁধা সমাধান করে নতুন ব্লক যোগ করার প্রতিযোগিতা। বিজয়ী নতুন বিটকয়েন ও লেনদেন ফি পুরস্কার পান। ২০২৪ সালের এপ্রিলের হালভিংয়ের পর প্রতি ব্লকের পুরস্কার 3.125 BTC।

ভুল ঠিকানায় পাঠানো বিটকয়েন কি ফেরত পাওয়া যায়?

সাধারণত না। ব্লকচেইনে নিশ্চিত হওয়া লেনদেন উল্টানোর কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। ঠিকানাটি যদি অন্য কারও হয়, কেবল তিনি স্বেচ্ছায় ফেরত দিলেই ফেরত পাওয়া সম্ভব। তাই প্রথমবার ছোট পরিমাণ পাঠিয়ে পরীক্ষা করে নিন।

বিটকয়েন কি নিরাপদ বিনিয়োগ?

বিটকয়েনের দাম অত্যন্ত অস্থির এবং অল্প সময়ে বড় ক্ষতি হতে পারে; কোনো নিশ্চিত আয় নেই। আমরা বিনিয়োগ পরামর্শ দিই না। যে টাকা হারালে আপনার জীবনযাত্রায় সমস্যা হবে, সেটি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে না রাখাই যুক্তিসঙ্গত।

BTC/USDT কেনা-বেচায় MEXC, Bitget ও Gate.io-র ঘোষিত ফি কত — অক্টোবরের হিসাবে

১২ অক্টোবর ২০২৬-এর উন্মুক্ত API অনুযায়ী MEXC-এ BTC/USDT-তে maker 0% ও taker 0.05%, Bitget-এ 0.2% এবং Gate.io-তে 0.2%। ১,০০,০০০ টাকার কেনা-বেচায় যথাক্রমে 100 (maker হলে 0), 400 ও 400 টাকা। এগুলো ঘোষিত মান; আপনার প্রকৃত হার অ্যাকাউন্টের ফি পাতায় দেখুন।

এক্সচেঞ্জ থেকে বিটকয়েন তুলতে মূল নেটওয়ার্কে Bitget-এর উত্তোলন ফি এখন কত

Bitget-এর পাবলিক API অনুযায়ী ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ মূল বিটকয়েন নেটওয়ার্কে উত্তোলন ফি 0.00002 BTC; ৯ সেপ্টেম্বরে ছিল 0.00003 BTC। ফি সময়ভেদে বদলায়, তাই পাঠানোর মুহূর্তে উত্তোলন পাতার সংখ্যাই চূড়ান্ত।

আরও পড়ুন

বিটকয়েন বোঝার পরের ধাপগুলো নিয়ে এই সাইটের অন্য লেখা — স্টেবলকয়েন USDT, অ্যাকাউন্ট খোলা, প্রতারণা চেনা এবং আইনি প্রেক্ষাপট।


সর্বশেষ যাচাইয়ের তারিখ: । ট্রেডিং ফি-র তথ্য ও উত্তোলন ফি ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের পাবলিক তথ্য থেকে (লেখার বাকি অংশের যাচাই-তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর)। এই লেখা শিক্ষামূলক; এটি আইনি বা বিনিয়োগ পরামর্শ নয়, এবং ক্রিপ্টো সম্পদে মূলধন হারানোর ঝুঁকি আছে।

মন্তব্য করুন