USDT কী? স্টেবলকয়েন সহজ ভাষায়, আর P2P-তে কেনার আগে যা জানা দরকার

সংক্ষেপে: USDT হলো একটি স্টেবলকয়েন — এমন একটি ক্রিপ্টো টোকেন যার দাম মার্কিন ডলারের সঙ্গে প্রায় ১:১ ধরে রাখার লক্ষ্যে তৈরি। বিটকয়েনের মতো এর দাম প্রতিদিন বড় আকারে ওঠানামা করে না, তাই এক্সচেঞ্জে এটি মূলত “ডলারের মতো একক” হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে “স্থিতিশীল” মানে “ঝুঁকিহীন” নয়: ইস্যুকারীর ওপর নির্ভরতা, ভুল নেটওয়ার্কে পাঠানো, আর বাংলাদেশে bKash বা Nagad দিয়ে P2P লেনদেনে অ্যাকাউন্ট আটকে যাওয়া — এই তিনটিই বাস্তব ঝুঁকি।

এই লেখাটি তথ্যমূলক। এখানে কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ বা আয়ের প্রতিশ্রুতি নেই। স্টেবলকয়েন রাখলে “মুনাফা” হয় না — এর কাজ দাম ধরে রাখা, দাম বাড়ানো নয়।

২০২৬-এর অক্টোবর হালনাগাদ (১২ অক্টোবর): এই লেখার দুটি নমুনা-তথ্য আজ নতুন করে নেওয়া হয়েছে। নেটওয়ার্ক ফি (Bitget-এর পাবলিক API): BEP20-এ এখন 0.01 USDT (৯ সেপ্টেম্বরে 0.15 ছিল), ERC20-এ 2 (ছিল 0.8), TRC20 অপরিবর্তিত 1.5। P2P নমুনা (Binance P2P-র পাবলিক বিজ্ঞাপন): নতুন ৮০টি বিজ্ঞাপনের ছবি নিচে। বাংলাদেশের পাঠকের জন্য P2P-র অংশটি এখন নেটওয়ার্কের অংশের আগে আনা হয়েছে। USDT কী, ঝুঁকি কোথায় — এই ব্যাখ্যাগুলো আজ আবার যাচাই করা হয়নি, তাই লেখার সার্বিক যাচাই-তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বরই আছে।

সূচিপত্র

USDT আসলে কী জিনিস

USDT হলো Tether নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ইস্যু করা ডিজিটাল টোকেন, যার প্রতিটি একক ১ মার্কিন ডলারের সমান মূল্য ধরে রাখার কথা। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে যে প্রতিটি টোকেনের বিপরীতে তাদের কাছে সমমূল্যের রিজার্ভ সম্পদ আছে।

USDT-কে একটি ডিজিটাল “ডলার-রসিদ” হিসেবে ভাবলে বোঝা সহজ। ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান Tether ডলার বা সমমূল্যের সম্পদ গ্রহণ করে নতুন টোকেন তৈরি করে, আর টোকেন ফেরত এলে সেগুলো বাতিল করে দেয়। এই তৈরি-ও-বাতিলের ব্যবস্থাটিই দামকে ১ ডলারের কাছাকাছি টেনে রাখে।

USDT চালু হয় ২০১৪ সালে, এবং আজ এটি সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া স্টেবলকয়েনগুলোর একটি। নামটির অর্থও সরল: “USD” মানে মার্কিন ডলার, আর “T” এসেছে Tether থেকে।

দাম ১ ডলারের কাছে থাকে কীভাবে

ধরুন বাজারে USDT-র দাম 0.98 ডলারে নেমে গেল। তখন যাঁরা সরাসরি ইস্যুকারীর কাছে টোকেন ফেরত দিতে পারেন, তাঁরা সস্তায় কিনে ১ ডলারে ফেরত দেওয়ার সুযোগ পান — এই কেনাকাটার চাপেই দাম আবার ওপরে ওঠে। দাম 1.02 হলে উল্টোটা ঘটে। পুরো ব্যবস্থাটি টিকে আছে একটি বিশ্বাসের ওপর: রিজার্ভ সত্যিই আছে এবং ফেরত দিলে ডলার পাওয়া যাবে।

সাধারণ ব্যবহারকারী কি সরাসরি ফেরত দিতে পারেন?

বাস্তবে না। সরাসরি ইস্যুকারীর সঙ্গে লেনদেনের সুযোগ মূলত বড় প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য। একজন সাধারণ ব্যবহারকারী USDT কেনেন বা বিক্রি করেন বাজারে — এক্সচেঞ্জে বা অন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে। তাই আপনার হাতে যে দাম আসে, সেটি বাজারের দাম, প্রতিশ্রুত দাম নয়।

USDT তৈরি ও বাতিলের চক্র যেভাবে দাম ১ ডলারের কাছে রাখে

স্টেবলকয়েন কত রকমের হয়

স্টেবলকয়েন মূলত তিন ধরনের: নগদ বা সমমূল্যের সম্পদে সমর্থিত (যেমন USDT, USDC), অন্য ক্রিপ্টো জামানত রেখে তৈরি, এবং কেবল অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভরশীল। তৃতীয় ধরনটির ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০২২ সালের TerraUSD।

সব স্টেবলকয়েন একইভাবে “স্থিতিশীল” নয় — দাম কী দিয়ে ধরে রাখা হচ্ছে, সেটাই আসল পার্থক্য। নিচের টেবিলে তিনটি ধরন পাশাপাশি রাখা হলো।

ধরনদাম ধরে রাখে যা দিয়েউদাহরণমূল দুর্বলতা
রিজার্ভ-সমর্থিতইস্যুকারীর কাছে থাকা ডলার, ট্রেজারি বিল ইত্যাদিUSDT, USDCইস্যুকারীর সততা ও রিজার্ভের মান
ক্রিপ্টো-জামানতভিত্তিকবেশি মূল্যের অন্য ক্রিপ্টো জামানত হিসেবে রাখাDAIজামানতের দাম হঠাৎ পড়ে গেলে চাপ
অ্যালগরিদমিককেবল সফটওয়্যারের নিয়ম ও আরেকটি টোকেনTerraUSD (২০২২ সালে ভেঙে পড়ে)আস্থা হারালে পতন ঠেকানোর কিছু থাকে না
সাধারণ শ্রেণিবিভাগ; কোনো নির্দিষ্ট স্টেবলকয়েনের সুপারিশ নয়।

২০২২ সালের শিক্ষা

২০২২ সালের মে মাসে অ্যালগরিদমিক স্টেবলকয়েন TerraUSD কয়েক দিনের মধ্যে তার ১ ডলারের মান হারিয়ে প্রায় মূল্যহীন হয়ে যায়। একই অস্থির সময়ে USDT-ও সাময়িকভাবে ১ ডলারের নিচে লেনদেন হয়েছিল, পরে আবার ফিরে আসে। ২০২৩ সালের মার্চে একটি মার্কিন ব্যাংক বন্ধ হওয়ার পর USDC-ও কিছু সময়ের জন্য ১ ডলারের নিচে নেমেছিল। শিক্ষাটি হলো: “স্টেবল” নামটি একটি লক্ষ্য, নিশ্চয়তা নয়।

USDT কেন এত বেশি ব্যবহার হয়

কারণ বেশিরভাগ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে দাম দেখানো ও কেনাবেচা হয় USDT-র বিপরীতে। বিটকয়েন বা অন্য কয়েন কিনতে, বিক্রি করে দামের ওঠানামা থেকে সরে থাকতে, কিংবা এক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেক প্ল্যাটফর্মে মূল্য সরাতে — তিন কাজেই USDT মাঝখানের মুদ্রা।

এক্সচেঞ্জে USDT প্রায় “স্থানীয় মুদ্রা”র ভূমিকা নেয়। আপনি যখন কোনো তালিকায় “BTC/USDT” দেখেন, তার মানে হলো বিটকয়েনের দাম USDT-তে মাপা হচ্ছে। অনেক আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জে টাকার সরাসরি জোড়া থাকে না, তাই বাংলাদেশের ব্যবহারকারীর কাছে সাধারণত প্রথম ধাপই হয় USDT।

  • মাঝখানের একক: টাকা → USDT → অন্য কয়েন, এবং ফেরার পথে উল্টো ক্রম।
  • ওঠানামা থেকে বিরতি: কেউ কোনো কয়েন বিক্রি করে সাময়িকভাবে USDT-তে রাখেন, যাতে দাম পড়লে ক্ষতি না বাড়ে। তবে এতে টাকার বিপরীতে ডলারের দামের ওঠানামা থেকেই যায়।
  • প্ল্যাটফর্ম বদল: USDT এক ব্লকচেইন ঠিকানা থেকে আরেকটিতে মিনিটের মধ্যে পাঠানো যায় — তবে নেটওয়ার্ক ঠিক হতে হবে (পরের অংশ দেখুন)।

যা USDT করে না

USDT নিজে কোনো আয় তৈরি করে না। কেউ যদি বলেন “USDT রাখলেই প্রতি মাসে নির্দিষ্ট শতাংশ পাবেন”, তাহলে প্রশ্ন করুন আয়টি কোথা থেকে আসছে — এই ধরনের নিশ্চিত আয়ের প্রতিশ্রুতি প্রতারণার সবচেয়ে পরিচিত সংকেত। বিস্তারিত পড়ুন ক্রিপ্টো স্ক্যাম চেনার ৭টি উপায় লেখায়।

স্থিতিশীল হলেও যে ঝুঁকিগুলো থেকে যায়

চারটি ঝুঁকি মাথায় রাখুন: ইস্যুকারীর রিজার্ভ নিয়ে আস্থার ঝুঁকি, সংকটে সাময়িকভাবে ১ ডলারের নিচে নামা, ইস্যুকারী নির্দিষ্ট ঠিকানার টোকেন জব্দ করতে পারে, এবং এক্সচেঞ্জে রাখা টোকেন আসলে এক্সচেঞ্জের জিম্মায় থাকে।

বিটকয়েনের দাম পড়ার ঝুঁকি USDT-তে কম, কিন্তু এর বদলে অন্য ধরনের ঝুঁকি আছে। এগুলো বিটকয়েনের ঝুঁকির মতো চোখে পড়ে না, তাই নতুনরা প্রায়ই উপেক্ষা করেন।

ঝুঁকিকী ঘটতে পারেআপনার দিক থেকে যা করা যায়
ইস্যুকারীর ওপর নির্ভরতারিজার্ভ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আস্থা কমে, দাম চাপে পড়েইস্যুকারীর প্রকাশিত রিজার্ভ প্রতিবেদন নিজে দেখুন; অন্যের দাবিতে নির্ভর করবেন না
সাময়িক দাম-বিচ্যুতিবাজার-সংকটে 1.00-এর নিচে লেনদেনজরুরি মুহূর্তে বিক্রির চাপে পড়বেন না, এমন পরিমাণই রাখুন
টোকেন জব্দইস্যুকারী নির্দিষ্ট ঠিকানার USDT আটকে দিতে পারেঅচেনা উৎস থেকে আসা USDT নিয়ে সতর্ক থাকুন
এক্সচেঞ্জের জিম্মাএক্সচেঞ্জ উত্তোলন বন্ধ করলে আপনার হাতে কিছু থাকে নানিরাপত্তা সেটিং (২-ধাপ যাচাই) চালু রাখুন; প্রয়োজনের বেশি রাখবেন না
এটি সাধারণ ঝুঁকি-তালিকা, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়।

রিজার্ভ প্রতিবেদন নিয়ে একটি সৎ কথা

Tether নিয়মিত রিজার্ভ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে সমালোচকদের একটি পুরনো আপত্তি হলো, এগুলো নির্দিষ্ট একটি দিনের হিসাবের নিশ্চয়তাপত্র — পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা নয়। আমরা এই বিতর্কের কোনো পক্ষ নিচ্ছি না; শুধু মনে করিয়ে দিচ্ছি যে USDT-র স্থিতিশীলতা শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা।

স্থিতিশীল হলেও USDT-র চারটি ঝুঁকি: ইস্যুকারী, দাম-বিচ্যুতি, জব্দ, এক্সচেঞ্জ

বাংলাদেশে P2P: bKash ও Nagad দিয়ে লেনদেনে অ্যাকাউন্ট আটকে যায় কেন

P2P মানে আপনি এক্সচেঞ্জের মধ্যস্থতায় আরেকজন ব্যবহারকারীকে টাকা পাঠান, আর তিনি USDT ছাড়েন। মোবাইল ওয়ালেট আটকে যাওয়ার সাধারণ কারণ: অন্যের নামের হিসাব থেকে টাকা আসা, ঘন ঘন অচেনা নম্বরে লেনদেন, আর প্রতারকের পাঠানো “চুরির টাকা”। মনে রাখুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্দেশনার প্রাপক তালিকায় MFS প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও আছে।

P2P-তে এক্সচেঞ্জ টাকা ধরে না — টাকা সরাসরি এক ব্যক্তির হিসাব থেকে আরেক ব্যক্তির হিসাবে যায়। এক্সচেঞ্জ কেবল বিক্রেতার USDT আটকে রাখে (এসক্রো), এবং ক্রেতা “টাকা পাঠিয়েছি” নিশ্চিত করার পর বিক্রেতা সেটি ছাড়েন। ফলে মোবাইল ওয়ালেটের দিকের সব ঝুঁকি আপনার নিজের।

একটি বাস্তব চিত্র: তারিখে আমরা Binance P2P-এর পাবলিক বিজ্ঞাপন তালিকা থেকে USDT/BDT-এর কেনার দিকের ৮০টি বিজ্ঞাপন নমুনা নিয়েছি। এতে bKash উল্লেখ ছিল ৪১ বার, Nagad ২১ বার, ব্যাংক ২৪ বার, Rocket ৬ বার (একটি বিজ্ঞাপনে একাধিক পদ্ধতি থাকতে পারে)। ৩১ আগস্টের আগের নমুনায় সংখ্যাগুলো ছিল bKash ৫৬, Nagad ২৮, Rocket ১১, ব্যাংক ২ — তবে দুটি নমুনা একই পদ্ধতিতে নেওয়া কি না আমরা নিশ্চিত নই, তাই দুটিকে সরাসরি তুলনা করা হচ্ছে না। দুই নমুনাতেই একটি জিনিস একই: মোবাইল ওয়ালেট, বিশেষ করে bKash, সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত — আর ঝুঁকিও জমা হয় ঠিক সেখানেই।

অ্যাকাউন্ট আটকে যাওয়ার সাধারণ কারণ

কারণকেন সমস্যা হয়যেভাবে এড়ানো যায়
অন্যের নামের হিসাব থেকে টাকাP2P প্রোফাইলের নাম ও টাকা পাঠানো হিসাবের নাম না মিললে সন্দেহজনক দেখায়শুধু নিজের নামের bKash/Nagad হিসাব ব্যবহার করুন; নাম না মিললে লেনদেন বাতিল করুন
প্রতারণার “তৃতীয় পক্ষের” টাকাপ্রতারক অন্য কাউকে ঠকিয়ে সেই টাকা আপনার হিসাবে পাঠায়; ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আপনার হিসাব আটকে যেতে পারেঅস্বাভাবিক কম দামের প্রস্তাব এড়িয়ে চলুন; লেনদেনের সব প্রমাণ রাখুন
ঘন ঘন অচেনা নম্বরে লেনদেনস্বল্প সময়ে বহু অচেনা নম্বরের সঙ্গে লেনদেন ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানের নজরে আসেলেনদেনের সংখ্যা সীমিত রাখুন; দৈনিক সীমার কাছাকাছি যাবেন না
চ্যাটের বাইরে যোগাযোগএক্সচেঞ্জের চ্যাটের বাইরে কথা হলে বিরোধে কোনো প্রমাণ থাকে নাসব কথা ও রসিদ এক্সচেঞ্জের নিজস্ব চ্যাটেই রাখুন
সাধারণ ব্যবহারকারী-অভিজ্ঞতা ও প্ল্যাটফর্মের নিয়মের ভিত্তিতে সংকলিত; কোনো নিশ্চয়তা নয়।

নির্দেশনার প্রাপক তালিকায় MFS কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের FE Circular No. 24 (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২) যাদের উদ্দেশে জারি হয়েছিল, সেই তালিকায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোও আছে। ব্যবহারিক অর্থে, ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের লেনদেনের সংকেত খুঁজতে পারে — তাই প্রতিপক্ষ সৎ হলেও হিসাব আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আইনি প্রেক্ষাপট বিস্তারিত জানতে পড়ুন জাতীয় ব্লকচেইন নীতি ২০২৬ লেখাটি।

P2P লেনদেনে মোবাইল ওয়ালেট আটকে যাওয়া এড়াতে শুধু নিজের নামের হিসাব

একই USDT, আলাদা নেটওয়ার্ক: ভুল করলে টাকা হারায়

USDT একাধিক ব্লকচেইনে চলে — যেমন TRC20, BEP20, ERC20। পাঠানো ও গ্রহণ দুই দিকে একই নেটওয়ার্ক বাছাই করতে হবে; না মিললে অর্থ প্রায়ই ফেরত আসে না। নেটওয়ার্কভেদে ফি-ও অনেক আলাদা।

USDT একটি টোকেন, কিন্তু এটি একাধিক “রাস্তা”য় চলে — প্রতিটি রাস্তা একটি আলাদা ব্লকচেইন। উত্তোলনের সময় এক্সচেঞ্জ আপনাকে নেটওয়ার্ক বেছে নিতে বলবে। যে ঠিকানায় পাঠাচ্ছেন, সেটি যে নেটওয়ার্কের, ঠিক সেটিই বাছতে হবে।

একটি প্রচলিত ধারণা হলো “TRC20 সবসময় সবচেয়ে সস্তা”। আমাদের নিজস্ব যাচাইয়ে তা মেলেনি। একটি বড় এক্সচেঞ্জের (Bitget) কোনো চাবি ছাড়াই দেখা যায় এমন পাবলিক তথ্য থেকে তারিখে USDT উত্তোলন ফি ছিল এরকম:

নেটওয়ার্কউত্তোলন ফি (USDT)
TRC20 (Tron)1.5
ERC20 (Ethereum)2
SOL (Solana)0.5
Polygon0.07
BEP20 (BNB Smart Chain)0.01
Arbitrum One0.1
TON0.15
উৎস: Bitget-এর পাবলিক কয়েন-তথ্য এন্ডপয়েন্ট, যাচাই ১২ অক্টোবর ২০২৬ (২৯ সেপ্টেম্বরের সঙ্গে একই; ৯ সেপ্টেম্বরে ERC20 ছিল 0.8 ও BEP20 0.15)। ফি এক্সচেঞ্জ ও সময়ভেদে বদলায় — পাঠানোর আগে স্ক্রিনে দেখানো সংখ্যাই চূড়ান্ত।

পাঠানোর আগে তিনটি মিল

  1. গ্রহণকারী যে নেটওয়ার্কের ঠিকানা দিয়েছেন, সেটি জিজ্ঞেস করে লিখিত নিন।
  2. উত্তোলন পাতায় ঠিক সেই নেটওয়ার্ক বাছুন; ঠিকানা কপি-পেস্ট করে প্রথম ও শেষ কয়েকটি অক্ষর মিলিয়ে নিন।
  3. প্রথমবার একটি ছোট পরীক্ষামূলক পরিমাণ পাঠান, পৌঁছানো নিশ্চিত হলে বাকিটা।
একই USDT, আলাদা নেটওয়ার্কে উত্তোলন ফি: TRC20 1.5, ERC20 0.8, BEP20 0.15

ওপরের ছবিতে আঁকা সংখ্যা (ERC20 0.8, BEP20 0.15) ৯ সেপ্টেম্বরের — এখন পুরোনো। হালনাগাদ সংখ্যা টেবিলে: ERC20 2, BEP20 0.01।

USDT লেনদেন হয় যেসব এক্সচেঞ্জে

নিচের প্রতিটি আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জে USDT-র স্পট বাজার আছে। কোনটিতে টাকার P2P বিজ্ঞাপন ও কোন পেমেন্ট পদ্ধতি পাওয়া যাবে, তা সময়ভেদে বদলায় — অ্যাপের ভেতরে নিজে দেখে নিন। টেবিলে এই সাইটের বিস্তারিত গাইড ও রেফারেল কোড দেওয়া আছে।

আমরা কোনো একটি এক্সচেঞ্জকে “সেরা” বলছি না। প্রতিটির নিবন্ধন ধাপ, রেফারেল কোডের ঘর এবং ফি-কাঠামো আলাদা; বিস্তারিত গাইডে সেগুলো আলাদাভাবে লেখা আছে।

এক্সচেঞ্জরেফারেল কোডএই সাইটের গাইডঅফিসিয়াল নিবন্ধন
BinanceZEBRABinance গাইডনিবন্ধন পাতা
OKXBOOKSOKX গাইডনিবন্ধন পাতা
Bitgetminer6Bitget গাইডনিবন্ধন পাতা
MEXCmexc-hqMEXC গাইডনিবন্ধন পাতা
BingXUWMAWOQKBingX গাইডনিবন্ধন পাতা
Gate.ioKEEPKEEPGate.io গাইডনিবন্ধন পাতা
BybitHODL8Bybit গাইডনিবন্ধন পাতা
Pionex222Pionex গাইডনিবন্ধন পাতা
“নিবন্ধন পাতা” লিংকগুলো অ্যাফিলিয়েট লিংক, HTML-এ rel=”sponsored” দিয়ে চিহ্নিত। এতে আপনার কোনো বাড়তি খরচ হয় না — বিস্তারিত অ্যাফিলিয়েট প্রকাশ পাতায়।

রেফারেল কোডটি নিবন্ধন ফর্মেই বসাতে হয়; পরে যোগ করার সুযোগ বেশিরভাগ জায়গায় থাকে না। কোন এক্সচেঞ্জে ঘরটি কোথায়, তা দেখুন রেফারেল কোড কোথায় বসাবেন লেখায়, আর পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়া ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে অ্যাকাউন্ট খোলার পুরো প্রক্রিয়া লেখায়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

নিচে পাঁচটি প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর — USDT কি সত্যিই ১ ডলার, এতে আয় হয় কি না, কোন নেটওয়ার্ক বাছবেন, P2P-তে হিসাব আটকালে কী করবেন, এবং USDT ও বিটকয়েনের পার্থক্য।

১ USDT কি সবসময় ঠিক ১ ডলার?

লক্ষ্য ১ ডলার, কিন্তু বাজারে দাম সামান্য ওপরে-নিচে থাকে। সংকটের সময় সাময়িকভাবে বেশি বিচ্যুতিও হয়েছে, যেমন ২০২২ সালের মে মাসে। আর টাকায় এর দাম নির্ভর করে ডলার-টাকার বিনিময় হার ও P2P বাজারের চাহিদার ওপর।

USDT রাখলে কি মুনাফা হয়?

না। USDT-র কাজ দাম ধরে রাখা, বাড়ানো নয়। কেউ USDT রাখলেই নির্দিষ্ট হারে আয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে জিজ্ঞেস করুন আয়টি কোথা থেকে আসছে — এটি প্রতারণার পরিচিত সংকেত।

USDT পাঠাতে কোন নেটওয়ার্ক বাছব?

যে নেটওয়ার্কের ঠিকানা গ্রহণকারী দিয়েছেন, ঠিক সেটিই। ফি-র দিক থেকে “TRC20 সবচেয়ে সস্তা” ধারণাটি সবসময় সত্য নয় — আমাদের ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর যাচাইয়ে একটি এক্সচেঞ্জে TRC20-এর ফি ছিল 1.5 USDT, আর BEP20-এর 0.01 USDT। পাঠানোর আগে স্ক্রিনের ফি দেখে নিন।

P2P লেনদেনের পর bKash হিসাব আটকে গেলে কী করব?

প্রথমে লেনদেনের সব প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন — এক্সচেঞ্জের অর্ডার নম্বর, চ্যাট, রসিদ ও সময়। তারপর ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল গ্রাহকসেবার মাধ্যমেই যোগাযোগ করুন। কেউ “টাকা দিলে হিসাব খুলে দেব” বললে সেটি আরেকটি প্রতারণা হতে পারে।

USDT আর বিটকয়েনের মধ্যে পার্থক্য কী?

বিটকয়েনের কোনো ইস্যুকারী নেই এবং এর দাম বাজারে অবাধে ওঠানামা করে; USDT একটি প্রতিষ্ঠান ইস্যু করে এবং এর লক্ষ্য ডলারের সমান থাকা। বিটকয়েনের পুরো ব্যাখ্যা পড়ুন আমাদের বিটকয়েন কী লেখায়।

এক্সচেঞ্জ থেকে USDT তুলতে কোন নেটওয়ার্কে খরচ কম — ১২ অক্টোবরের হিসাবে

Bitget-এর পাবলিক API অনুযায়ী ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ BEP20-এ 0.01, Polygon-এ 0.07, Arbitrum One-এ 0.1, TON-এ 0.15, Solana-য় 0.5, TRC20-এ 1.5 ও ERC20-এ 2 USDT। কিন্তু সবচেয়ে সস্তা নেটওয়ার্কই বেছে নেবেন না — গ্রহণকারী ঠিক সেই নেটওয়ার্ক সমর্থন করে কি না আগে মেলান।

বাংলাদেশে USDT/BDT P2P বিজ্ঞাপনে কোন পেমেন্ট পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত — অক্টোবরের নমুনা

১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Binance P2P-র পাবলিক তালিকা থেকে কেনার দিকের ৮০টি বিজ্ঞাপনে bKash ৪১ বার, ব্যাংক ২৪ বার, Nagad ২১ বার ও Rocket ৬ বার উল্লেখিত ছিল (একটি বিজ্ঞাপনে একাধিক পদ্ধতি থাকতে পারে)। এটি একটি ছোট নমুনা, পুরো বাজারের চিত্র নয়।

আরও পড়ুন

USDT বোঝার পর পরের ধাপগুলো নিয়ে এই সাইটের অন্য লেখা — বিটকয়েনের মৌলিক ব্যাখ্যা, অ্যাকাউন্ট খোলা, প্রতারণা চেনা এবং আইনি প্রেক্ষাপট।


সর্বশেষ যাচাইয়ের তারিখ: । নেটওয়ার্ক ফি-র তথ্য ও P2P বিজ্ঞাপনের নমুনা ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের (লেখার বাকি অংশের যাচাই-তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর)। এই লেখা তথ্যমূলক; এটি আইনি বা বিনিয়োগ পরামর্শ নয়, এবং ক্রিপ্টো সম্পদে মূলধন হারানোর ঝুঁকি আছে।

মন্তব্য করুন